সর্বশেষঃ
ভান্ডারিয়ায় ড্রীম বাংলা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সাইদ চৌধুরীর নগত অর্থ সহায়তা[][][]ভাণ্ডারিয়ায় মুজিববর্ষের ঘরের কাজ পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার[][][]খালেদা জিয়ার লিভার ঠিকভাবে কাজ করছে না'[][][]আলজাজিরার সাংবাদিককে ‘জিহাদী’ বলে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ[][][]পরীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা : প্রধান অভিযুক্ত নাসিরসহ গ্রেফতার ৫[][][]আগৈলঝাড়ায় ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র উদ্বোধন[][][]আগৈলঝাড়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে তিন প্রতারক আটক, মুচলেকা দিয়ে মুক্ত[][][]মাদরাসা শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের করতে কাজ করছে আ'লীগ সরকার--এমপি জ্যাকব[][][]৩০ জুন পর্যন্তবাড়লো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি[][][]স্বাস্থ্য নয়, অন্যান্য খাতের কোটি টাকা কানাডায় চলে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফিলিস্তিনিদের উল্লাস শর্তহীন যুদ্ধবিরতি গাজায়

ডিওবি ডেস্ক: 

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। উভয় পক্ষই বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ১১ দিন যুদ্ধের পর দু’পক্ষ বৃহস্পতিবার রাতে যৃদ্ধবিরতিতে একমত হয়। স্থানীয় সময় রাত ২টায় (২৩.০০ জিএমটি, বৃহস্পতিবার) যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। মিসরের উদ্যেগে এই যুদ্ধবিরতি হয়েছে। অবশ্য এতে কোনো পূর্বশর্ত নেই। মিসর এখন আশা করছে, ইসরাইল ও গাজায় প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত করার।

হামাস কর্মকর্তারা বলছেন, তারা তাদের দুই শর্তের ব্যাপারে অনির্দিষ্ট ছাড় পেয়েছেন। যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে তাদের দুই শর্ত ছিল শেখ জাররাহ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা যাবে না এবং আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সে ইসরাইলি পুলিশের উপস্থিতি থাকতে পারবে না। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভুল।

যুদ্ধবিরতির খবর প্রকাশ হওয়ার পরপরই গাজায় নতুন করে ইসরালি বিমান হামলা হয়, ইসরাইলে রকেট নিক্ষিপ্ত হয়। এ দিকে ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর বেন গুরিয়ানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়। এতেই পরিস্থিতির নাজুকতা ফুটে ওঠে। এমনকি যুদ্ধবিরতির মধ্যেও কোনো কিছু নির্ধারিত হয়নি। ১১ দিনের ইসরাইলি হামলায় গাজায় অন্তত ২৩২ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ৬৫ জন। আর ইসরাইলে দুই শিশুসহ নিহত হয়েছে ১২ জন।

এর আগে হামাসের সিনিয়র এক নেতা হিজবুল্লাহ সমর্থক আল মায়াদিন নেটওয়ার্ককে জানান, আল-আকসা মসজিদ ও শেখ জাররাহয় ‘ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ’ হওয়ার নিশ্চয়তা হামাস পেয়েছে। ওসামা হামদান এসব নিশ্চয়তার বিস্তারিত বর্ণনা দেননি। কিংবা কিভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, তাও জানাননি। যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য দু’টি মিসরীয় নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল গাজা ও ইসরাইল যাবে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজা ও ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোতে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে আসে, তারা বিজয়সূচক ‘ভি,’ সঙ্কেত প্রদর্শন করে, পতাকা দোলায়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই তারা বিজয়ের গান গাইতে থাকে।

আলজাজিরার সংবাদদাতা সাফওয়াত আল-কালুত শুক্রবার সকালে বলেন, ফিলিস্তিনিরা আতশবাজি পুড়িয়ে, ফাঁকা গুলি ছুড়ে উল্লাস করছে। তিনি বলেন, হাজার হাজার লোক বিজয় উদযাপনের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছে। হামাসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা গাজার একটি পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করছেন। ইসরাইলি হামলায় তিনটি ভবনে বসবাসরত ওই পরিবারের ৪৫ জন নিহত হয়।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন যে তারা হামাসের বেশ ক্ষতি করেছেন, গাজার নিয়ন্ত্রণকারী এই গ্রুপটির শক্তি বেশ খর্ব করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু গাজায় বিপুল সংখ্যক বোমা ফেলেও ওই লক্ষ্য অর্জনের সরকারি দাবির ব্যাপারে ইসরাইলিরা সংশয়ে রয়েছে। আবার ইসরাইলের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও বিপদে রয়েছেন। গাজায় হামলার মাধ্যমে তিনি উগ্রপন্থীদের সমর্থন আদায় করে আবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন বলে অনেকে মনে করছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করতে বাধ্য হওয়ার কারণে তিনি বরং আরো সমর্থন হারাচ্ছেন।

পশ্চিম জেরুসালেম থেকে আলজাজিরার সংবাদদাতা হ্যারি ফাওসেট বলেন, অনেক ধ্বংস ও অনেক মৃত্যুর পর কী পাওয়া গেল তা নিয়ে অনেক উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ইসরাইলে এমন ধারণাই বিরাজ করছে যে হামাসকে গুঁড়িয়ে দেয়া নিয়ে এখন যেসব দাবি করা হচ্ছে, তা আগেও অনেকবার করা হয়েছে।
এ দিকে ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আকিভা এলডার বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিভক্ত করার সরকারি কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, গাজা, পশ্চিম তীর ও ইসরাইলি প্রপারে ফিলিস্তিনি সমাজগুলোর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করার ইসরাইলি কৌশল গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবার ব্যর্থ হয়েছে।

তেলআবিব থেকে স্কাইপের মাধ্যমে আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ইসরাইল প্রপারে ইসরাইলি ও আরবদের মধ্যকার ক্ষত নিরাময় হতে শুরু করেছে বলে আমরা বিশ্বাস করার পর তা আবার বেড়ে গেছে। ইসরাইলি সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি হয়নি। তিনি বলেন, অধিকন্তু, এই যুদ্ধবিরতিতে উগ্র ডানপন্থীরা খুবই অসন্তুষ্ট। ফলে নেতানিয়াহু তার উগ্র ডানপন্থী অংশীদারদের হারাতে পারেন।

0Shares