সর্বশেষঃ
ভান্ডারিয়ায় ড্রীম বাংলা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সাইদ চৌধুরীর নগত অর্থ সহায়তা[][][]ভাণ্ডারিয়ায় মুজিববর্ষের ঘরের কাজ পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার[][][]খালেদা জিয়ার লিভার ঠিকভাবে কাজ করছে না'[][][]আলজাজিরার সাংবাদিককে ‘জিহাদী’ বলে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ[][][]পরীকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা : প্রধান অভিযুক্ত নাসিরসহ গ্রেফতার ৫[][][]আগৈলঝাড়ায় ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র উদ্বোধন[][][]আগৈলঝাড়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে তিন প্রতারক আটক, মুচলেকা দিয়ে মুক্ত[][][]মাদরাসা শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের করতে কাজ করছে আ'লীগ সরকার--এমপি জ্যাকব[][][]৩০ জুন পর্যন্তবাড়লো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি[][][]স্বাস্থ্য নয়, অন্যান্য খাতের কোটি টাকা কানাডায় চলে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পিরোজপুরে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ভাঙা বাঁধ দিয়ে লোকালয় প্লাবিত

ডিওবি ডেস্ক :

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমার জোতে পিরোজপুরের নদ-নদীর পানি বেড়েছে। জেলার কচা নদী ও বলেশ্বর নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জোয়ারের পানিতে জেলার অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ইন্দুরকানি উপজেলায় বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে লোকালয় ও মঠবাড়িয়া উপজেলার মাঝের চরের বাঁধ ভেঙে বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে ইন্দুরকানি উপজেলার কচা নদী ও বলেশ্বর নদের তীরে টগরা গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, জোয়ারের পানি বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয়ে ঢুকে বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। টগরা গ্রামের সোয়া তিন কিলোমিটার বাঁধের প্রায় দুই কিলোমিটার ভেঙে গেছে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই গ্রামের ৩৫০টি পরিবার।

টগরা গ্রামের মো. আতিকুর রহমান বলেন, দুই বছর আগে বেড়িবাঁধ তৈরি করা হয়েছিল। গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জোয়ারের পানিতে বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। দুপুরে অনেক বাড়িতে রান্না করা হয়নি। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কচা নদীর তীরের বাড়িগুলোতে যাতায়াত করতে কষ্ট হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২৯৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১৪০ কিলোমিটার ও ইন্দুরকানি উপজেলায় ৯৪ কিলেমিটার। মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট এলাকার বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ইন্দুরকানি উপজেলার ৯৪ কিলোমিটার বাঁধের বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইন্দুরকানি উপজেলার টগরা, চারাখালী, কালাইয়া, কলারণ, পূর্ব চর বলেশ্বর, পূর্ব চণ্ডিপুর, খোলপটুয়া ও সাউদখালী গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ১৫ থেকে ১৭টি স্থান ভাঙা রয়েছে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। মঠবাড়িয়া উপজেলার বলেশ্বর নদের মধ্যে থাকা মাঝের চরের দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে চরের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া পিরোজপুর সদর, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর কাউখালী উপজেলার ৪০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, মাঝের চর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। চরের ১৮৫টি পরিবার স্থানীয় দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

পাউবোর পিরোজপুর কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, জেলার কচা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙা বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

পিরোজপুরের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মোজাহারুল হক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় জেলার ৭ উপজেলায় ৫৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ও ৩২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগকালে খাদ্য ও সহায়তার জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। জেলায় ৬৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

0Shares